ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৬ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনায় প্রণোদনা চান পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা

নুরুজ্জামান তানিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৬ ৬:৪৭:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৬ ১০:০৫:২৯ পিএম

করোনা মোকাবিলায় গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এই ছুটির মেয়াদ দুই দফায় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতে দেশের অন্যান্য খাতের মতো পুঁজিবাজারও বন্ধ রয়েছে। এরফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এই খাত। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরসকারের কাছে প্রণোদনা দাবি করেছেন পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন অনেক বিনিয়োগকারী আছেন, যাদের আয়ের পুরোটাই শেয়ারবাজার নির্ভর। এই বাজার বন্ধ থাকায় তাদের আয় রোজগার বন্ধ রয়েছে। অনেকেই অর্থ কষ্টে পড়েছেন। করোনার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হলে তারা আরও সংকটে পড়বেন।

বিএসইসি’র ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্যমতে, ২০১০ সালে দ্বিতীয় দফায় পুঁজিবাজারে ধসের পর বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় আসেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও মার্চেন্ট ব্যাংক মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩ ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের তথ্য মতে, দেশে করোনা সংক্রামণের প্রভাবে শেয়ারবাজার বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী।

এদিকে, গত ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তাতে পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মো. রকিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তাতে পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করবো। যেসব ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছেন, তাদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যেভাবে সুদের সাপোর্ট দিচ্ছেন, সেভাবে সাপোর্ট দিন।  যেহেতু ঋণের বিপরীতে ৯ শতাংশ সুদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেহেতু ৫ শতাংশ সুদ সরকার থেকে এই প্রণোদনার অধীনে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। বাকি ৪ শতাংশ সুদ বিনিয়োগকারীরা দেবেন। এতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও উপকৃত হবেন।’

এ বিষযয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ক্ষুদ্র-বিনিয়োগকারী ফাহিমা বেগম, রাশিদা আক্তার ও শিরিন আক্তার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরেই দেশের শেয়ারবাজারে নীরব ধস চলছে। গত দুই মাসে আমাদের পুঁজি অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ মুহূর্তে আমাদের মতো অনেক নারী-পুরুষ বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

ক্ষতিগ্রস্ত পুরুষ ক্ষুদ্র-বিনিয়োগকারী শাকিলুর রহমান সোহাগ, সাজ্জাদুর রহমান ও জোবায়ের ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই পুঁজিবাজারের অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। সেদিক বিবেচনায় এমনিতেই শুধু শেয়ার ব্যবসার ওপর নির্ভর বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে সমস্যায় রয়েছেন। আর করোনার প্রভাবে শেয়ার ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন-যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।’

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক  বলেন, ‘করোনার প্রভাব অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পড়েছে। এ মহামারি যদি দীর্ঘ মেয়াদি হয়, তাহলে তারা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমাদের  অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী অর্থ কষ্টে পড়েছেন। অনেকেই টাকা ধার চেয়েছেন। তাই ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অন্তুর্ভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘দেশের শেয়ারবাজারে বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। যার ফলে শেয়ারগুলোর দাম পড়ে গেছে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ মুহূর্তে শেয়ারবাজার বন্ধ। ফলে তাদের আয় রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক।’ এ বিষয়ে সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলেও তিনি মনে করেন


ঢাকা/এনটি/এনই