ঢাকা, শনিবার, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ০৪ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ঈদ ছুটিতে করোনা ঝুঁকির মধ্যেও সচল শুল্ক স্টেশনগুলো

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৪ ৫:৪২:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৪ ৫:৪২:৪৩ পিএম

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রার্দূভাবে সাধারণ ছুটি কিংবা পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি। কোনো ছুটিতেই বসে নেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক স্টেশনগুলো।

এমনকি ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটির ৬ দিনে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে কাস্টমস হাউস ও স্টেশনগুলো। এরই মধ্যে ছয়জন কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, তবুও থেকে নেই তাদের কার‌্যক্রম।

এনবিআর থেকে সীমিত আকারে চালু রাখার নির্দেশনা দিলেও কাজের প্রয়োজনে কোনো কোনো শুল্ক স্টেশন দিন-রাত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানির কাজ। কাস্টম হাউসগুলো মধ্যে ঢাকা কাস্টমস হাউস, কমলাপুর আইসিডি কাস্টমস ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কাজের চাপ একটু বেশি।  তবে দেশে বৃহত্তম স্থলবন্দরে বেনাপোল কাস্টমস হাউস ভারতের অংশ বন্ধ থাকার কারণে এখনো সচল হয়নি।

কমলাপুর আইসিডি কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা জানান, করোনো ঝুঁকির মধ্যে সাধারণ ছুটির মধ্যে দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে।  রমজান মাসে রোজা রেখে রাত ১০টাতেও কাজ করা হচ্ছে।  এমনকি সাপ্তাহিক ছুটি ও বর্তমান চলমান ঈদের ছুটিতেও টাকা কাজ করে যাচ্ছি।  এরই মধ্যে আমাদের এক সহকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তারপরও আমাদের কাজ থেমে নেই।  যদিও এনবিআর কর্তৃপক্ষ আমাদের যথেষ্ট সেফটি সড়ঞ্জাম দিয়েছেন।  তবে সরকারের অন্যান্য দপ্তরের প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের এ সুযোগ নেই।  কামলাপুর শুল্ক স্টেশনে মূলত রপ্তানিকাজ বেশি হচ্ছে।  আমদানির কাজ তুলনামূলক কম। 

প্রত্যেক কর্মকর্তাই আমদানি-রপ্তানিরকাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার প্রত্যয় নিয়েই কাজ করছেন বলে জানান এ কমলাপুর আইসিডির কমিশনার মোবারা খানম।

অন্যদিকে দেশের বৃহৎ শুল্ক ষ্টেশন চট্টগ্রাম বন্দর। ঈদছুটিতে কাস্টমসের কাজ নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার মো. ফখরুল আলম রাইজিংবিডিকে বলেন, সাধারণ ছুটির শুরু থেকেই যথেষ্ট নিরপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল রাখতে আমরা সব সময় তৎপর।  করোনার ঝুঁকি থাকলেও আমাদের কাজ থেমে নেই্।  ঈদের ছুটির মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছি।  এমনকি ঈদের দিনও কাজ চলবে।  তবে আমদানি-রপ্তানি আগের চেয়ে অনেক কম।  রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক অবস্থায়।  তারপরও  অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আমাদের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সাথে আছি।

শুল্ক স্টেশন না হলেও ব্যবসায়ীদের সহায়তায় সীমিত আকারে অফিস খোলা রেখেছেন বলে জানিয়েছে যশোর এ বিষয় যশোর ভ্যাট কমিশনারেট অফিস। এ বিষয়ে কমিশনার মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা সব সময় প্রস্তুত। ব্যবসায়ীদের যে কোনো প্রয়োজনের তাদের সেবা দিতে প্রস্তুত আমরা। প্রয়োজনে তাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। তারপরও চাই অর্থনীতির চাকা সচল থাকুক।

অন্যদিকে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দরে অবস্থিত বেনাপোল কাস্টমস হাউজ। প্রতিদিন এইপথে চলাচল করেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। লকডাউনের কারণে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল দিল্লির নির্দেশে বাণিজ্য চালুও হয়েও আবার বন্ধ হয়ে গেছে। বনগাঁর পার্কিং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আবার বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, করোনার মতো সংক্রমণব্যাধির জন্য সীমান্তবর্তী এ এলাকাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও আমাদের শুল্ক স্টেশন বন্ধ রয়েছে। তারপরও ঈদের ছুটির মধ্যে ব্যবসায়ীদের সেবা দিতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

এদিকে করোনা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছয়জন কর্মকর্তার শরীরে করোনাভাইরাসের অস্ত্বিত্ব পাওয়া গেছে।  যাদের মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুইজন রাজস্ব কর্মকর্তা ও দুইজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, আইসিডি কমলাপুরে একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রয়েছে।  ছয়জনের মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক রাজস্ব কর্মকর্তা হাসপাতালে ভর্তি আছেন।  একজন রাজস্ব কর্মকর্তা, চার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বাড়ি ও বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  এছাড়া বেশ কয়েকজন উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কাস্টম হাউস ও কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ মুসফিকুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, এখন পর‌্যন্ত ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন।  আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।  আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটি কিংবা ঈদ ছুটির মধ্যেও  ফ্রন্টলাইনে থেকে কাস্টমস কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।  কর্মকর্তাদের জন্য আরো সুরক্ষা সামগ্রী প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।


ঢাকা/এম এ রহমান/সাজেদ