ঢাকা, সোমবার, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ঈদেও বন্ধ চিড়িয়াখানা, স্বস্তিতে পশু-পাখি

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ৭:৫৯:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৫ ৮:০৮:১৫ পিএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এরইমধ্যে সোমবার (২৫ মে) পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎযাপিত হচ্ছে। ঈদের দিন অনেকে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন  রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায়।  কিন্তু করোনার কারণে চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় তারা ফিরে যাচ্ছেন। এদিকে, দর্শনার্থীদের সমাগম না থাকায় স্বস্তিতে আছে চিড়িয়াখানার পশু-পাখিগুলো।

সোমবার (২২ মে) রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানার সামনে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসা আকতার হোসেন বলেন, ‘ঈদের দিন পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। কিন্তু সবকিছুই বন্ধ পাচ্ছি। চিড়িয়াখানা বন্ধ। দুটি ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে এবার কোথাও ঘুরাতে পারব না, এটা কষ্টের।’

কিশোর রিপন মাহমুদ বলে, ‘প্রতি ঈদে বন্ধুদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াই। কিন্তু এবার করোনার কারণে সবকিছুই বন্ধ রয়েছে।’

প্রতিবছর ঈদের দিন থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহ রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে অনেক ভিড় থাকে। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে সে চিত্র চোখে পড়েনি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানা বন্ধ রয়েছে। দর্শনার্থীদের ভিড় না থাকায় স্বস্তিতে রয়েছে এখানকার পশু-পাখিগুলো। 

এ বিষয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানার এক কর্মচারী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে চিড়িয়াখানার কার্যক্রম মনিটর করা হচ্ছে। চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে পশু-পাখিকে খাবার দেওয়া হচ্ছে।’
 


তিনি বলেন, ‘চিড়িয়াখানায় ২২ বছর ধরে চাকরি করি।  কখনো এরকম দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল না। চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের সমাগমে পশু-পাখিরা বিরক্ত হয়ে খাচার কোণায় গিয়ে থাকত। এখন দর্শনার্থী না থাকায় পশু-পাখিরা সুখ-শান্তিতে সময় পার করছে। পশুরা মনে করছে, তারা স্বাধীন, তাই তারা গেটের সামনে আসছে। পাখিরা স্বাধীনভাবে উড়ছে।’

অপর এক কর্মচারী জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে চিড়িয়াখানায় ঢুকছেন। খাবার নিয়ে আসা বাহনে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে ।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবে চিড়িয়াখানাসহ সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকায় পশুরা খাচার সামেনে আসছে। অন্য সময়ের চেয়ে খাবার বেশি খাচ্ছে। করোনাসহ বিভিন্ন ভাইরাস থেকে পশুদের  রক্ষায় চিকৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিড়িয়াখানায় প্রতিদিন জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে । সবাই পিপিই,  মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারও করছে।

মৎস্য ও  প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জাতীয় চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে পাখি ও প্রাণীদের যাতে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় এবং তাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ না করা হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

ঢাকা/আসাদ/রফিক