ঢাকা, বুধবার, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনায় কর্মহীন, সাহায্যের আশায় রাস্তায় তারা

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ১১:২৯:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ২:২০:৫৯ এএম
সেগুনবাগিচা মোড়ে বসে থাকেন। গাড়ি থামলে বা মানুষ দেখলেই তারা খাবারের জন্য সাহায্য চান || ছবি : শাহীন ভুইয়া

‘আমি ফুটপাতে পিঠা বিক্রি করতাম। করোনার কারণে মার্চ থেকে পিঠা বিক্রি বন্ধ। ঘরে খাবার নেই, তাই সাহায্যের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। ’

এ কথাগুলো রাজধানীর কাকরাইলের বাসিন্দা মর্জিনা বেগমের। মর্জিনার মতো অনেককেই দেখা গেছে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায়। একটু ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তার আশায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন তারা। কখনো বসে থাকছেন পথের ধারে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। রোজগার না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। খাদ্য সংকটে দিশেহারা অনেক পরিবার। দিন এনে দিন খাওয়া লোকদের সংসার চলছেই না। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে তাদের কাছে তিনবেলা খাবার খেতে পাওয়াটাই বড় চিন্তার বিষয়।

রোববার রাজধানীর কাকরাইল, পল্টন, মতিঝিল, শান্তিনগরসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ বসে আছেন রাস্তার ধারে। তাদের অনেকেই সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। কারো মুখে মাস্ক আছে, কারো মুখে নেই। নারীরা শাড়ির আঁচলে মুখ ঢেকেছেন। ত্রাণ পাওয়ার আশায় পথের পাশে বসে আছেন তারা।

কাকরাইল, পল্টন, মতিঝিল, শান্তিনগরে রাস্তার পাশে অবস্থান নেওয়া অসহায় মানুষগুলোকে অসহায় হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। প্রায় ফাঁকা সড়ক ধরে ছুটে আসা কোনো গাড়ি যদি একটু থামে তখনই তারা গাড়িটির দিকে ছুটে যাচ্ছেন কিছু সাহায্যের আশায়।

মর্জিনা নামের এক নারী বলেন, ‘খিলগাঁওয়ে ফুটপাতে বিভিন্ন ধরেন পিঠা বিক্রি করে ২ মেয়ে ও অসুস্থ স্বামী নিয়ে সংসার চালাতাম। করোনার কারণে পিঠা নিয়ে রাস্তায় বসতে পারি না। গত মার্চ মাস থেকে কাজ নেই। রোজগারও নেই। ঘরে খাবার নাই। একটু সাহায্য করলে পরিবার নিয়া খাইতে পারতাম। লজ্জা-শরম ফেলে রাস্তায় হাত পাতছি।’

কাকরাইল মোড়ে বসে থাকেন। গাড়ি থামলে বা মানুষ দেখলেই তারা খাবারের জন্য সাহায্য চান || ছবি : শাহীন ভুইয়া

জামিলা খাতুন নামের আরেক নারী বলেন, ‘অন্যের বাসায় বুয়ার কাজ করতাম। করোনার কারণে অনেকেই বাড়ি চলে গেছে। ঘরে জমানো টাকা নেই। বাচ্চাদের সেমাই, পোলাওয়ের টাকা জোগাড় করতে সড়েক এসে দাঁড়িয়েছি।’

শাহাবুদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘ফুটপাতে প্যান্টের দোকানে কাজ করতাম। করোনার কারণে এখন বেকার। অপেক্ষায় আছি, নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালো কিছু করবেন।’

কাকরাইলে বোরহান হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই, শহরের মানুষের দয়া-মায়া নাই।  চাইতে চাইতে মুখ ব্যথা হয়ে যায়। ২৫ জনের কাছে চাইছি, একজনে সাহায্য দিয়েছে।’   

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পথশিশু ও ভিক্ষুকদের ত্রাণসহ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। যারা লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সামগ্রী গ্রহণে বিব্রত বোধ করেন তাদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

 

ঢাকা/আসাদ/রফিক