ঢাকা, সোমবার, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

হোম কোয়ারেন্টাইনে ঈদ: যা বললেন বিশিষ্টজনরা

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৬ ১২:১৬:৪৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ৯:০৮:৪৮ এএম

ঈদ মানে আনন্দ, মহোৎসব। এবার ঈদ উদযাপিত হচ্ছে একেবারেই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। এবার করোনার কারণে হোম কোয়ারেন্টাইনে বন্দি জীবনে উৎসববিহীন ঈদ পালিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড.  আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে কোলাকুলি, পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনময়। এবার করোনাভাইরাসের কারণে এর কোনোটিই করা যাচ্ছে না। এটা কখনো কল্পনাও করিনি। এবারই প্রথম ঈদে কোলাকুলি করতে পারছি না।  একে অপরের সাথে দেখা করতে পারব না। সত্যিই অনেক কষ্টের এবং বেদনার একটি অনুভূতি। এ পরিস্থিতিতে আমাদের উচিত হবে ঘরের মধ্যে থাকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তি, মোবাইল এসবের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে এর বিকল্প নেই।’

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘আমাদের বাঙালি মুসলমানসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের অন্যতম উৎসব ঈদুল ফিতর। এবারের অনুভূতি অনেক বেদনার। আমরা একে অপরের সাথে মিশতে পারছি না, কোলাকুলি করার সুযোগ নেই। তবু আমি বলব সবাইকে তারা যেন ঘরের মধ্যে থেকে যাতে ঈদ উদযাপন করে। ’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘এবারহোম কোয়ারেন্টাইনে আমার  ঈদ একেবারেই সাদামাটা। বলা চলে, সাদাকালো ঈদ। এই ঈদে শিশুদের মাঝে যে আনন্দ সেটি স্তিমিত হয়ে গেছে, তরুণদের যে আবেগ-অনুভূতি সেটি স্তিমিত হয়ে গেছে। কারণ, চারিদিকে নানা সংকট—অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক সংকট, মেলামেশার সংকট। এর মধ্যেও অনেকে আশপাশের লোকদের সাথে মিশতে চাইবে। অনেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় যোগাযোগ করবে। তবে আমার জায়গা থেকে আমি বলব, এবারের ঈদ একেবারেই সাদামাটা।’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘এবার একটি ব্যতিক্রমী ঈদ হচ্ছে। সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ অবশ্যই ঈদ উদযাপন করবে। তবে সবার কাছে কামনা থাকবে সবাই যেন আরো বেশি সহনশীল হয়।’

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদ, পার্বনের উৎসব করার সময় এখন নয়। এখন আমাদের প্রত্যেকেরই জীবন-জীবিকার জন্য লড়াইয়ের সময়। নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখার সময়। বেঁচে থাকলে জাতীয় উৎসবে আমরা আবারও শামিল হতে পারব। তবে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। এ দুর্যোগ থেকে আমরা যেন সবাই রক্ষা পেতে পারি, এটাই এবারের ঈদের জন্য একমাত্র কাম্য হওয়া উচিত।’

কথাসাহিত্যিক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদেরকে আবেগ নয়, বিজ্ঞান ও বিবেক দিয়ে তাড়িত হতে হবে। আমাদের জন্য এটা একেবারেই নতুন একটি অভিজ্ঞতা। তবে এটা অবশ্যই আমাদেরকে একাত্তরকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তখন তো আমরা দুই বছর ভালভাবে ঈদ করতে পারেনি। আমরা বের হয়েছি বন্দুক কাঁধে নিয়ে। এমন সময় এবারের ঈদ আমাদের জন্য আসলো, যে সময়ে আমাদের সবাইকে ঘরে থাকতে হচ্ছে। আমি বলব, বেঁচে থাকার জন্য এবং আরেকজনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, দেশকে বাঁচানোর জন্য আমাদেরকে ঘরে থাকার বিকল্প নেই। সবাই ঘরে থাকব, সুস্থ থাকব।’

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘এমন বিষণ্ন, নিরানন্দ ঈদ আমাদের জীবনে আমরা কখনো দেখিনি। আমরা যখন যুদ্ধ করেছি, ক্যাম্পে ছিলাম, তখনো আমরা মোটামুটি আনন্দ করেছি। এবার তো একেবারেই ব্যতিক্রম। আমার জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। তবে সবার প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন আশপাশের গরিব-দুখীদের প্রতি নজর রাখে।’

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এবারের মতো ঈদ এ জীবনে আর পাইনি। সত্যিই অনেক কঠিন অভিজ্ঞতা। আমি বাংলাদেশে আছি আমার স্ত্রী অস্ট্রেলিয়াতে আছেন। প্রতিবার সে চাইলে আমাদের সাথে একসাথে ঈদ করতে পারতেন। কিন্তু এবার সেটি হচ্ছে না। মূল কারণ, করোনাভাইরাস এবং আমাদের ঘরে আবদ্ধ থাকা।’

 

ঢাকা/ইয়ামিন/রফিক