ঢাকা, সোমবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ০৬ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

লিবিয়ায় ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চায় সরকার, মামলা হলে দেবে সহযোগিতাও

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩০ ৮:০৫:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-৩১ ৭:৩২:০৭ এএম

লিবিয়ার মানবপাচারকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি এ বিষয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রতি জোর দিচ্ছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যদি কোনো পক্ষ এ বিষয়ে মামলা করে তাহলেও পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন দেওয়া হয়েছে। এতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আহতদের চিকিৎসা এবং মৃতদের বিষয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে লিবিয়াতে মূলত কোনো সরকার ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া আমাদের সব শ্রমিক ছিল অবৈধ অভিবাসী। তাই আপাদত কোনোরকম মামলার বিষয়ে সরকার ভাবছে না। আমরা জোর দিচ্ছি ক্ষতিপূরণের বিষয়ে।’

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির সরকারের কাছে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।’

অভিবাসীদের পরিবার বা তৃতীয় কোনো পক্ষ এ বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করলে সরকারের মনোভাব কী হবে এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাব এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’

জানা গেছে, দূতাবাসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজদাহের সুরক্ষা বিভাগকে অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় আনার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ ঘটনায় দেশের মানব পাচারকারী চক্রের যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করার বিষয়েও জোর দিচ্ছে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় কর্মী পাঠানো গত পাঁচ বছর ধরেই বন্ধ। তারপরও কী করে এত লোক বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া যাচ্ছে তা তদন্তের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

‘মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা প্রাথমিক তথ্য মতে- সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকার লোকজন এভাবে ইউরোপে যায়। কাজেই এ এলাকার স্থানীয় দালাল ও মানবপাচার চক্রকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়।”

এদিকে, লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম জানান, ৩৮ জন বাংলাদেশিসহ কয়েকজন সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন। ডিসেম্বর মাসে তারা ভারত ও দুবাই হয়ে বেনগাজি বিমানবন্দরে পৌঁছান।

মূলত ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে তারা লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদায় আটক করে রাখা হয়েছিল তাদের। মানব পাচারকারী চক্রের কাছ থেকে অপহৃত হন তারা। পরে অপহরণকারীদের হাতে খুন হন তারা।


ঢাকা/হাসান/এসএম/সনি