ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সুপারহিরোদের চেয়েও ক্ষমতাবান যেসব প্রাণী

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২৬ ১২:৩৫:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২৬ ১২:৪৬:৩৩ পিএম

বেশ কিছু প্রাণীর আশ্চর্যজনক ক্ষমতা রয়েছে, যা কমিক বইয়ের সুপারহিরোরদের চেয়েও শক্তিশালী। জেনে নিন এমন কিছু প্রাণীদের কথা।

স্লথের দ্রুত আরোগ্য ক্ষমতা : বৃক্ষচারি প্রাণী স্লথ। তিন আঙুল বিশিষ্ট এই প্রাণী খুব ধীরে নড়াচড়া ও চলাফেরা করে, তাই এদের নামে স্লথ অর্থাৎ অলস। চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে, স্লথ খুব বেশি দ্রুত চলাচল করতে না পারলেও ক্ষত বা আঘাত থেকে আরোগ্য লাভের গতিতে অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় স্লথ অনেক এগিয়ে। এ কারণে বিজ্ঞানীরা এই প্রাণীকে নিয়ে গবেষণার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, স্লথের গায়ের লোমে অধিক পরিমাণ কার্যকরী ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতি থাকায় তারা অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় কোনো প্রকার ইনফেকশনের সংক্রমণ ছাড়াই দ্রুত ক্ষত থেকে সেরে উঠে।

অনুকরণে ওস্তাদ লায়ারবার্ড : এই অস্ট্রেলিয়ান পাখিগুলো অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে অন্যান্য পাখির সুর ও কৃত্রিম ধ্বনি অনুকরণ করতে পারে। সহজ কথায় বললে, যেকোনো ধরনের শব্দ অনুকরণের ক্ষেত্রে এরা ওস্তাদ। সেটা হোক করাতের শব্দ, গাড়ির হর্নের শব্দ, কুকুরের ডাক কিংবা ক্যামেরার শাটারের শব্দ।

সর্বভুক হায়েনা : বলা হয়ে থাকে হায়েনার পেটে বাকি রয় না কিছু। বাস্তবেও তাই। হিংস্র বন্য প্রাণী, পাখি, সাপ, সরীসৃপ প্রাণী থেকে শুরু করে নিজ প্রজাতির সদস্য সবই এদের খাদ্যতালিকার অন্তর্গত। তাদের চোয়ালের জোর এতোই যে তা শরীরের হাড় গুঁড়ো করে দিতেও সক্ষম। শুধুমাত্র ঘোড়ার পায়ের খুড়, গরুর মাথার শিং এবং চুল এদের হজম হয়না।

মৌমাছির ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়: মৌমাছির ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় রয়েছে। উড়ার সময় মৌমাছির পাখনার ঝাপটায় পজিটিভ ইলেকট্রিক চার্জ উৎপন্ন হয়। কোনো ফুলের গায়ে অবতরণের আগে মৌমাছি এই শক্তির কিছুটা ফুলের উপর ছড়িয়ে দেয়। ফলে ওই ফুলের পরিস্থিতি কি বা ওই ফুলের পরাগরেণু আছে কি নেই তা জেনে নিতে পারে। ২০১৩ সালে জার্নাল সাইন্সের এক গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, ফুলের কোনো পরিবর্তন হয়ে থাকলে তা মৌমাছির প্রেরিত চার্জে ধরা পড়ে, যার কারণে মৌমাছি সহজেই বুঝতে পারে কোনো ফুলের পরাগ রেণু আগেই নিষিক্ত হয়েছে বা হয়নি।

গতিরাজ পেরেগ্রিন ফ্যালকন: পেরেগ্রিন ফ্যালকন প্রজাতির বাজপাখি গতির ক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম পাখি। এরা ঘণ্টায় ২৪২ মাইল গতিতে উড়তে সক্ষম। শিকারের দিকে ছুটে যাওয়ার সময় এরা তাদের ডানাগুলোকে গুটিয়ে ফেলে। এর ফলে তারা তীর্যক আকার ধারণ করতে পারে এবং সহজে ছোট ছোট শিকার ধরতে পারে।

রেইনডিয়ারের প্রখর দৃষ্টি : তুষার অঞ্চলের রেইনডিয়ার প্রজাতির হরিণের দৃষ্টি এতোই প্রখর যে এরা বায়ুমন্ডলের অতি বেগুনি রশ্মি দেখতে পায়। এই প্রখর দৃষ্টির কারণে এরা সহজেই তুষার অঞ্চলে খাবারের জন্য উৎকৃষ্ট চারণভূমির খোঁজ করতে পারে এবং প্রধান শত্রু নেকড়ে ও শিকারীদের বুঝতে পারে।

অদৃশ্য হতে পারে কাটলফিশ: সমগ্র প্রাণীকূলের মধ্যে ছদ্মবেশ ধারণের দিক থেকে কাটলফিশ সবার থেকে এগিয়ে। সমুদ্রের তলদেশে এরা যেকোনো জলজ প্রাণীর বা আশপাশের পরিবেশের মধ্যে নিজেদের মিলিয়ে ফেলতে পারে। এর ফলে সহজেই শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। এছাড়াও এদের ত্বকে এমন উপাদান রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে।

হাতির বহুমুখী নাক: আমরা সবাই হাতির শুঁড়কে নাক হিসেবেও গণ্য করে থাকি। কিন্তু এই শুঁড় এর মাধ্যমে যে হাতি এক টন এর অধিক ওজনের বস্তু বহন করতে পারে তা কি আমরা জানতাম? তবে শুধু নাকই নয় ক্ষেত্র বিশেষে হাতি তার শুঁড়কে পানি ছিটানো, পানির নিচে থাকাকালীন সময়ে শ্বাস নেওয়াসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী নানা ভাবে ব্যবহার করে থাকে। শিকারীদের কারণে এই বুদ্ধিমান প্রাণীটি এখন বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় রয়েছে।

অঙ্গ পুনরায় উৎপাদন করতে পারে সী কুকুমবার: শুয়োপোকা আকৃতির এই সামুদ্রিক জলজ প্রাণীর অন্যতম একটি অভিনব রক্ষণাত্মক গুণ হলো তারা প্রয়োজনের সময় তাদের শরীরের কিছু অংশ নির্গত করতে পারে। এটি একি সাথে অভিনব এবং কিছুতা বিরক্তিকরও বটে। এই প্রক্রিয়ায় তারা তাদের শরীরের মাংসপেশী নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রয়োজনের সময় পায়ুপথের মাধ্যমে শরীরের কিছু অংশ শত্রুর দিকে নিক্ষেপ করে। সেই সাথে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থও নির্গত হয়। এর মাধ্যমে তারা তাদের শত্রুকে বধ করে। নির্গত অঙ্গ পরবর্তীতে পুনর্গঠিত হয়।

কিছু সাপের অভ্যন্তরীণ তাপ ইন্দ্রিয়: কিছু পিট ভাইপার, পাইথন ও বোর প্রজাতির সাপ তাদের এই তাপ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে আশেপাশে থাকা শিকারের গায়ের তাপ শনাক্ত করতে পারে। তাদের মুখমণ্ডলে ছোট ছোট অঙ্গের কারণেই এটা সম্ভব হয়। অয়্যারড এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই স্নায়ুগুলো মস্তিষ্কের সোমাটোসেন্সরি সিস্টেমের সাথে সংযোগ থাকায় সেটি স্পর্শ অনুভব করার ক্ষমতা তৈরি করে। যার কারণে তাপ শনাক্ত করে শিকার বুঝতে পারে সাপ।

 

ঢাকা/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন