ঢাকা, রবিবার, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩১ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মাস্কের সুবিধা-অসুবিধা

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৬ ১১:২৬:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৬ ১১:৫৩:৩৬ পিএম

দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় ভাইরাসটির বিস্তার সম্পর্কে ভয় এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণ ঝুঁকি হ্রাস করার আশায় অনেকে ফেস মাস্ক পরছেন।

কিন্তু ফেস মাস্ক কি আসলেই আপনার সুরক্ষার জন্য সহায়ক? বিশ্বজুড়ে নানা পরামর্শের ভিড়ে এটি পরতে হবে কিনা, তা জানা আসলে মুশকিল হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ইংল্যাল্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ফেস মাস্ক ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষার কার্যকরী উপায় নয়। আবার স্লোভেনিয়া ও অস্ট্রিয়া সহ আরো বেশ কয়েকটি দেশ নাগরিকদের ফেস মাস্ক পরার জন্য বলছে।

এই বিভ্রান্তি দূর করতে যুক্তরাজ্যের হুইটিংটন হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বেন কিলিংলি ফেস মাস্ক পরার উপকারিতা এবং অপকারিতা ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সঠিক পরিস্থিতিতে ফেস মাস্ক সংক্রমণ ছড়ানো হ্রাস করতে সহায়ক, তবে এটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা হয়।’

ডা. কিলিংলির মতে, সাধারণ মানুষ ফেস মাস্ক দুটি উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমত, ভাইরাস আক্রান্ত লোকেরা অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

ডা. কিলিংলি বলেন, ‘এর স্বপক্ষে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে এবং এটি একটি বহুল প্রস্তাবিত রীতি। উদাহরণস্বরূপ, উপসর্গ রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি মাস্ক পরতে পারেন যেন ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে। তবে শুধু মাস্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সামাজিক দূরত্ব ও হাতের স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।’ দ্বিতীয়ত হচ্ছে, সংক্রমণ এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে সাধারণ মানুষ মাস্ক পরতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে এটি দুর্বল পন্থা।

ডা. কিলিংলির মতে, আরেকটি সমস্যা হলো, সাধারণ মানুষ মাস্কের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে না। যেমন ফেস মাস্ক প্রায় সময়ই পরিবর্তন করা উচিত, হাত সবসময় জীবাণুমুক্ত রাখা উচিত এবং ব্যবহৃত টিস্যু বা মাস্ক ঢাকনাবন্ধ পাত্রে ফেলা উচিত। কোনো মাস্ক যদি সংক্রমণ রোধ করতে কাজ করে তাহলে এটি বাইরে থেকে দূষিত হয়ে যায়। আর সেই মাস্কে স্পর্শে হাতে জীবাণু ছড়াতে পারে। আর হাতে থাকা জীবাণু নাকে ঢুকতে পারে। অনেকে তর্ক করতে পারেন যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেস মাস্কে নাক ঢেকে থাকে কিন্তু চোখে স্পর্শ করার মাধ্যমেও ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। 

ডা. কিলিংলির পরামর্শ হচ্ছে, ফেস্ক মাস্ক কেনার জন্য সাধারণ মানুষের তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় মানুষজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হওয়ার শঙ্কা না থাকলে মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। বাইরের বাতাসে ভাইরাসটির সংক্রমণ রয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। একইভাবে মানুষজন হ্যান্ড গ্লাভস পরে থাকে। হ্যান্ড গ্লাভস আপনাকে মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখে না এবং এটা হতে পারে যে, ভাইরাস ত্বকের চেয়ে গ্লাভসে বেশি দিন টিকে থাকে। হ্যান্ড গ্লাভস যারা পরেন তাদেরও নিয়মিত হাত জীবাণুমুক্ত করা উচিত, যাদের পরেন না তাদের মতোই।

ডা. কিলিংলির মতে, আমাদের এটাও মনে রাখা উচিত যে, ফেস মাস্ক সংখ্যাতীত নয় এবং এটি সে সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা উচিত যে সময়ে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে।



ঢাকা/ফিরোজ