ঢাকা, শনিবার, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ০৪ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পুরুষ নাকি নারী ডাইনোসর: বিজ্ঞানীরা ভুল করছেন!

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ৩:৩৮:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৫ ৩:৩৮:৩৬ পিএম

নতুন একটি গবেষণা বলছে, পুরুষ এবং নারী ডাইনোসরদের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে অনেক ভুল করা হয়েছে।

প্যালেওন্টোলজিস্টরা ডাইনোসরের জীবাশ্মের লিঙ্গ সঠিকভাবে শনাক্ত করছে কিনা তা নিয়ে অনেক বছর ধরেই বিতর্ক চলছে। আগের একটি গবেষণায় এক্ষেত্রে সাফল্যের দাবি থাকা সত্ত্বেও, লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে নতুন গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, পার্থক্য চিহ্নিত করা সত্যিই খুব কঠিন।

বিজ্ঞানী দলটি আধুনিক কালের ঘড়িয়ালের (বিপন্ন প্রজাতির কুমির) মাথার খুলি বিশ্লেষণ করেছেন, কেবল জীবাশ্মের রেকর্ডের ভিত্তিতে পুরুষ এবং নারী পার্থক্য করা কতটা সম্ভব তা দেখার জন্য।

নারী ঘরিয়ালের তুলনায় পুরুষ ঘরিয়াল আকৃতিতে বড় হয়ে থাকে এবং তাদের নাকের ডগায় ঘড়া নামক মাংসল উপাঙ্গটিও বেশি বড় থাকে। নরম টিস্যু দিয়ে তৈরি এই ঘড়া জীবাশ্মে স্পষ্ট নয়। তবে হাড়ের ফাঁপা অংশের মাধ্যমে খুলিতে দেখা যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাদুঘরে থাকা ১০৬টি ঘড়িয়ালের নমুনা গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে, পুরুষদের নাকের ডগায় কল্পিত সামান্য ফাঁপা অংশটির উপস্থিতি বাদ দিয়ে, লিঙ্গ আলাদা করে বলা প্রায় অসম্ভব ছিল।

লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ডা. ডেভিড হোন বলেন, ‘ডাইনোসরগুলোর মতো ঘরিয়ালগুলোও বড়। ডিম থেকে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়া সরীসৃপ প্রাণী ঘরিয়াল, যা তাদেরকে বিলুপ্ত ডাইনোসর প্রজাতির গবেষণার জন্য একটি ভালো মডেল করে তোলে।’

তিনি জানান, ‘আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে- এমনকি নমুনার লিঙ্গ সম্পর্কে পূর্ব ধারণা থাকা সত্ত্বেও, পুরুষ এবং নারী ঘড়িয়ালকে আলাদা করে বলা এখনও কঠিন হতে পারে। বেশিরভাগ ডাইনোসরের ক্ষেত্রে আমাদের এই গবেষণায় ব্যবহৃত ডেটার পরিমাণ আর কোথাও নেই। যেহেতু ডাইনোসরের লিঙ্গ জানি না, তাই আমরা মনে করি যে এই কাজটি আরো কঠিন হবে। পুরুষ এবং নারী প্রাণীর আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকাটাই স্বাভাবিক। ডাইনোসরেরও ক্ষেত্রেও হয়তো ব্যাপারটা তাই। তবে জীবাশ্ম থেকে এটি নির্ণয় করা খুব কঠিন।’

ডা. ডেভিডের মতে, নতুন এই গবেষণা পরামর্শ দিচ্ছে যে ডাইনোসরগুলোর লিঙ্গ শনাক্তের ক্ষেত্রে পার্থক্যগুলো আকর্ষণীয় না হলে বা ঘড়ার মতো কোনো স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য না থাকলে, বিদ্যমান কঙ্কাল ব্যবহার করে পুরুষ এবং নারী ডাইনোসর সিদ্ধান্তে বেগ পেতে হবে।

নতুন এই গবেষণা আগের গবেষণাগুলোকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, যেগুলোতে বলা হয়েছিল যে, জনপ্রিয় বড় প্রজাতির টাইর‍্যানোসরাস রেক্স ডাইনোসরের মধ্যে লিঙ্গ ভেদে পার্থক্য ছিল।

ডা. ডেভিড বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে এক গবেষণায় বলা হয়েছিল নারী টি. রেক্সগুলো পুরুষদের তুলনায় বড়। তবে এটি ২৫টি ভাঙা নমুনা থেকে প্রাপ্ত রেকর্ডের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। আর আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে যে, এই স্তরের ডেটা কেবল এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ভালো নয়।’

 

ঢাকা/ফিরোজ