ঢাকা     রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭ ||  ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

শাশুড়ি-ননদের আগুনে দগ্ধ খাদিজার মৃত্যু

107 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২১, ১১ অক্টোবর ২০১৮  
শাশুড়ি-ননদের আগুনে দগ্ধ খাদিজার মৃত্যু

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন শাশুড়ি এবং ননদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ খাদিজা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুবকর মিয়া ও নিহতের স্বামী নবীন প্রধান (৪০)।

পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম (৫৫), ননদ সাফিয়া বেগম (৩৭) এবং আরেফা (২৫) মিলে ঘরে বেঁধে তিন সন্তানের জননী খাদিজা বেগমের (৩০) গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাদিজার স্বামী উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের উত্তর খৈকড়া গ্রামের মৃত মনরউদ্দিনের ছেলে নবীন প্রধান পেশায় রিকশাচালক। ১৬ বছর আগে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল করতেতুল গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের মেয়ে খাদিজার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর থেকে নানা বিষয় নিয়ে শাশুড়ি ও দুই ননদ মিলে খাদিজাকে নির্যাতন করতেন।

গত শুক্রবার দুপুরে খাদিজার সঙ্গে শাশুড়ি ও দুই ননদের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে শাশুড়ি ও ননদ মিলে খাদিজাকে ঘরে বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এ সময় তার তিন সন্তান মায়ের চিৎকারে ছুটে আসলে এই অবস্থা দেখে তারা চিৎকার শুরু করে। পরে প্রতিবেশীরা এসে গৃহবধূকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, তারপর সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে টানা সাত দিন মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করে দুপুর ১টার দিকে মারা যায়।

প্রতিবেশী মোকতেজা, ইতি ও রাশিদা জানান, ঘটনার পর তারা এগিয়ে এসে খাজিদাকে উদ্ধার করেন। ওই সময় শাশুড়ি মনোয়ারা, ননদ সাফিয়া ও আরেফা দাঁড়িয়ে ছিল কিন্তু তারা এগিয়ে আসেনি।

বক্তারপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আছমত আলী জানান, ঘটনার পর আহত খাজিদা ও তার সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা শাশুড়ি ও দুই ননদের প্রতি অভিযোগ করেছে। ওই ঘটনার পর থেকে শাশুড়ি ও ননদেরা পলাতক।

নিহত গৃহবধূর স্বামী নবীন প্রধান মোবাইল ফোনে জানান, দুপুর ১টার দিকে তার স্ত্রী ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে বাড়িতে রওনা দেবেন।  

ওসি মো. আবুবকর মিয়া জানান, ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা এখনো অভিযোগ করেনি। এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে হত্যা মামলা করা হবে।



রাইজিংবিডি/কালীগঞ্জ/১১ অক্টোবর ২০১৮/রফিক সরকার/বকুল

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়