ঢাকা, বুধবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘বেঁচে থাকলে অনেক ক্রিকেট খেলতে পারবো’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৯ ৭:২৬:৪৬ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৯ ৩:২৩:৫৭ পিএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ব্যাটিং অনুশীলনের ভিডিও দিয়ে লিটন লিখেছেন, ‘দিনগুলো মিস করছি।’ সাথে জুড়ে দিয়েছেন কান্নার ইমোজি।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ইনডোরের উইকেটে করা নেট সেশনের ভিডিও আপলোড করেছেন লিটন। ড্যাশিং ওপেনার এখন পুরোপুরি গৃহবন্দী। কি মনে করে সেদিন যেন মোবাইলে কয়েকটা ভিডিও করেছিলেন। এখন সেগুলো দেখেই দিন কাটছে তাঁর। আর ২২ গজে না নামার আক্ষেপে পুড়ছেন।

‘কেমন যে লাগছে বুঝিয়ে বলতে পারব না। মোবাইল ঘেটে ঘেটে দেখছি নিজের আর কোনো ভিডিও পাই কিনা। সেদিন যে কি মনে করে ভিডিও করেছিলাম….।‘- বলছিলেন লিটন।

করোনার ধাক্কায় জনজীবন এখন স্থবির। চার দেয়ালে বন্দী হয়ে আছেন লিটনও। জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার এখন তিনি। আছেন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। আরও একমাস ঘরবন্দী হয়ে থাকলেও অর্থ আয়ের চিন্তা করতে হবে না! মাস গেলে অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে বেতন। কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করলেই চেপে আসে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের মন।

‘আমাদের তো তাও বিসিবি আছে। বেতন দেবে। কিন্তু যারা দিনে এনে দিনে খায় তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। আমরা এগিয়ে এসেছি। অনেক ক্রিকেটার এগিয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসেছে। কিন্তু দেখবেন তাদের কষ্ট হবে। কারণ সংখ্যাটা অনেক। করোনা থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের কষ্ট থাকবে।’ – যোগ করেন লিটন।

অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে লিটনের করার আছে সামান্যই। ঘরে বসে ফিটনেসে বেশ মনোযোগী। আর পেট ভরে খাচ্ছেন, ঘুমাচ্ছেন, আবার উঠে খাচ্ছেন, ছবি দেখছেন, রান্নার ভিডিওতেও চোখ রাখছেন, এইতো। চার দেয়ালকে তাঁর কাছে মনে হচ্ছে কারাগার! নিজেকে মনে হচ্ছে কয়েদী।

লিটন বলেন, ‘খুব কষ্ট হচ্ছে। নিজের তৈরি করা সূচি ধরে কাজ করছি। বিসিবিও একটা দিয়েছে। সেটাও ঠিক রাখছি। এছাড়া খাচ্ছি, ঘুমোচ্ছি আর ছবি দেখছি। তেমন কিছু করার নেই। দিন কি আর এভাবে কাটে! মনে হচ্ছে এটা একটা কারাগার। আমি কয়েদী (হাসি) । ’

মাঠের ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়েকে এক হাতে শাসন করে নিজের ব্যাটিং শৈলী দেখিয়েছেন। ঢাকা লিগে একই পারফরম্যান্স ধরে রাখার ইচ্ছে ছিল তাঁর। কিন্তু করোনা সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। তবে সংকটময় পরিস্থিতিতে ক্রিকেট নিয়ে খুব বেশি একটা ভাবছেন না ড্যাশিং ব্যাটসম্যান।

‘এ মুহূর্তে আসলে ক্রিকেট নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। পুরো বিশ্ব করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বেঁচে থাকলে অনেক ক্রিকেট খেলতে পারব। এখন ঘরে থাকাই উত্তম।’ – বলেছেন লিটন। 

এদিকে গৃহবন্দী সময়টায় খুব বাজে এক অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। গত ২৭ মার্চ জীবনসঙ্গীনী দেবশ্রী বিশ্বাস সঞ্চিতা রান্নাঘরে চা বানাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত হন। তাঁর ডান হাত জ্বলে গিয়েছিল, পুড়েছিল চুল। লিটন জানালেন সঞ্চিতা এখন সুস্থ। নিজের টু ডু লিস্টে যুক্ত হয়েছে সঞ্চিতাকে সেবা-শ্বশ্রুষার দায়িত্ব। পরম ভালোবাসায় এ কাজেও লিটন পেয়েছেন সেঞ্চুরি। মার্ক দিয়েছেন স্বয়ং সঞ্চিতা-ই।

 

ঢাকা/ইয়াসিন/কামরুল