ঢাকা     শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৪ ১৪২৭ ||  ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কোটি টাকা হারানোর শঙ্কা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের

ইয়াসিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১৭, ৯ জুলাই ২০২০  

করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ জাতীয় দলের একাধিক সিরিজ স্থগিত হয়েছে। সিরিজগুলো কবে হবে তা অজানা। আদৌ হবে কিনা তাও নিশ্চিত নয়।

যদি সিরিজগুলো কোনো কারণে না হয় তাহলে জাতীয় দলের প্রায় প্রত্যেক ক্রিকেটারের বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হবে। সেই অঙ্কটা প্রায় কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি, ভাতা এবং প্রিমিয়ার লিগে চুক্তি হিসেব করে এমন অঙ্ক বেরিয়ে এসেছে। জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের নিয়মিত ক্রিকেটারদের ক্ষতির শঙ্কা বেশি।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ এক রাউন্ডের খেলা হওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে দেশের ক্রিকেট। করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার থেকে ক্রিকেটীয় সকল কার্যক্রম বন্ধ। স্থগিত হয়েছে একের পর এক সিরিজ। প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ হওয়ায় দেশের সকল ক্রিকেটারদের আয়ের পথ বন্ধ। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও এর বাইরে নয়। জাতীয় দলের চুক্তিভুক্ত এবং দলের আসা-যাওয়ার ভেতরে যারা আছেন তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাপক চাহিদা। মোটা অঙ্কের চুক্তিতেই তাদের দলে নেয় ক্লাবগুলো। ২৫ লাখের নিচে কারো চুক্তিই নেই। সিলিং মূল্য তো ৫০-৬০ লাখ টাকা।

এছাড়া স্থগিত হওয়া সিরিজগুলো থেকে আয়বঞ্চিত তারা। এ বছর দশটি টেস্ট খেলার কথা বাংলাদেশের। খেলেছে মাত্র দুইটি টেস্ট। একটি পাকিস্তানে, অন্যটি ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। করোনার কারণে পাকিস্তানে একটি টেস্ট, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুটি করে টেস্ট এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি টেস্ট স্থগিত হয়েছে। প্রত্যেকটি টেস্টই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। প্রতি টেস্টের জন্য খেলোয়াড়রা ৬ লাখ টাকা করে ম্যাচ ফি পান। হিসেব অনুযায়ী আট টেস্টের জন্য ৪৮ লাখ টাকা হারানোর শঙ্কা।

এছাড়া আয়ারল্যান্ডে তিনটি এবং পাকিস্তানে একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার কথা ছিল। ওয়ানডে ম্যাচ ফি এখন ৪ লাখ টাকা। এখানে যুক্ত হবে আরও ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া আয়ার‌ল্যান্ড সফরে চারটি টি-টোয়েন্টি ছিল। টি-টোয়েন্টির ম্যাচ ফি ২ লাখ টাকা। এখানে আরও ৮ লাখ টাকা হারানোর শঙ্কা। যদি সিরিজগুলো সূচি থেকে হারিয়ে যায় শুধু ম্যাচ ফি বাবদ ৭২ লাখ টাকা ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদের। এছাড়া সিরিজচলাকালীন দৈনিক ৭৫ ডলার করে ভাতা পান জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এই খাত থেকেও অর্থ হারাবেন তারা। এ বছর একটি মহাদেশীয় এবং একটি বিশ্বকাপের সূচি আছে। করোনার কারণে দুটি ‍টুর্নামেন্টই না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো না হলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

তবে মহামারি এ পরিস্থতিতে আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে একদম ভাবছেন না জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। রাইজিবিডিকে তিনি বলেছেন,‘খেলতে পারছি না এটার থেকে কষ্ট অন্য কিছুতে নেই। আর্থিক দিকটি বিবেচনায় আসে। কিন্তু এ মহামারিতে বেঁচে থাকাটাই স্বস্তি।’ তিন ফরম্যাটের নিয়মিত ক্রিকেটার সৌম্য সরকার বলেছেন,‘আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ঠিকই। পরে যদি সিরিজগুলো আবার হয়ে যায় তখন তো ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’ রুবেল হোসেন টেস্ট খেলছেন না। নিয়মিত ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলছেন। আর্থিক ক্ষতি নিয়ে তেমন ভাবনা নেই তারও,‘যেভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে সেখানে বেঁচে আছি এটাই তো অনেক। টাকা পয়সা আয় করা যাবে। খেলা শুরু হলে সবই হবে হয়তো। এখন আসলে এগুলো নিয়ে ভাবছি না।’


ঢাকা/ইয়াসিন

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়