পরিবারের ইচ্ছায় ঢাকায় তামিমকে স্থানান্তর

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের সার্বিক অবস্থা আশাব্যঞ্জক। তবে এই মুহূর্তে তাকে অন্য কোথাও ‘মুভ করা খুবই রিস্কি’ বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তবুও পরিবারের ইচ্ছায় আজ মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় তাকে সাভারের কেপিজে হাসপাতাল থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইফতারের পরপরই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন তামিম। সিসিইউ ইউনিট থেকে তাকে হুইল চেয়ারে করে বের করে আনা হয়। মুখে মাস্ক পরা ছিলেন তামিম। বিমর্ষ লাগছিল তাকে। এ সময়ে তার পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন।
কেপিজে হাসপাতালের কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটের ইনচার্জ রাসেল হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেছেন, ‘‘পরিবারের সিদ্ধান্তে তামিমকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওখানেই তিনি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। আমরা আমাদের থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি ওনাকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে। উনি এই মুহূর্তে ভালো আছেন। তবুও তাকে পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।’’
এক ঘণ্টারও কিছু সময় পর বসুন্ধরার এভার কেয়ার হাসপাতালে পৌঁছায় তামিমকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। পুরো রাস্তায় পুলিশ প্রটোকল পেয়েছিলেন তামিম। এখানে তামিম কিছুদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হাওয়ার পর দুয়েক দিনের মধ্যে বাসায় ফিরতে পারেন। এরপর নিজের রিহ্যাব ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে দেশের বাইরে যেতে পারেন তামিম।
গতকাল (২৪ মার্চ) বিকেএসপিতে ঢাকা লিগের ম্যাচ খেলতে নামার আগে প্রথমে মাইনর ও পরে ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে’ অজ্ঞান হয়ে পড়েন তামিম। তাকে কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়েছিল যে, ২২ মিনিট সময় ধরে সিপিআর ও তিনটি ডিসি শক দিতে হয়েছে। এরপর দ্রুত এনজিওগ্রাম করে শতভাগ ব্লক থাকা একটা আর্টারিতে রিং লাগিয়েছেন চিকিৎসকরা। অবিশ্বাস্য গতিতে হয়েছে সবকিছু। চিকিৎসকদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সময়মতো হওয়ায় তামিম পেয়েছেন নতুন এক জীবন।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল