মাতৃদুগ্ধে মন্ত্রমুগ্ধ হতেই হবে যে কারণে..
শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম
শাহ মতিন টিপু : মায়ের দুধ হলো নবজাতক সন্তানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রথম ঘণ্টার মধ্যে নবজাত শিশুকে তা পান করানো শুরু করা উচিত। মাতৃদুগ্ধ পান এমন এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা শিশুর প্রথম বছরগুলোতে যথাযথ পুষ্টি জোগানোর মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যসহ বাচ্চার বৃদ্ধি ও বিকাশে অবদান রাখে। সব মা-ই স্তন্যপান করাতে সক্ষম। পরিবার ও সমাজের ভেতর থেকে তার প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করলেই মা এতে শতভাগ সফল হন। শালদুধ যা কলোস্ট্রাম নামেও অভিহিত, হলুদাভ ঘনদুধ যা গর্ভাবস্থার শেষ দিকে স্তন থেকে নিঃসরিত হতে থাকে।
পুস্টি বিজ্ঞানীদের মতে, শিশু তার ছয় মাস বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ পান করবে। অন্য আর কোনো খাবারের প্রয়োজন নেই। আলগা পানিরও দরকার নেই। তারপর দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে এই মাতৃদুগ্ধ পান চালিয়ে যাবে। তবে ছয় মাস বয়স হতে শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি স্বাভাবিক পারিবারিক খাবার যেমন-খিচুড়ি খাওয়ানো শুরু করতে হবে।
প্রতিবছর আগস্ট এলেই পালিত হয় ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’। এবারও ৬ আগস্ট থেকে এই সপ্তাহ পালিত হয়েছে। এবারের সেøাগানটিও হৃদয়গ্রাহী ও অর্থবহ। স্লোগানটি হচ্ছে- ‘কাজের মাঝে শিশু করবে মায়ের দুধ পান, সবাই মিলে সবখানে করি সমাধান’। এবার সেøাগানটির সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে আরো ৭টি বিষয়। এগুলো হল- সুযোগ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা বা নগদ সহায়তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, চাকরির সুরক্ষা ও বৈষম্যহীনতা, মাতৃদুগ্ধ দানের বিরতি এবং দুগ্ধদানের সুব্যবস্থা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ-সবল হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে উদ্বুদ্ধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ আগস্ট ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০১৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, মায়ের দুধের বিকল্প বলে কিছু নেই। শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ালে শুধু শিশুর জীবন রক্ষা এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় তাই নয়, বরং কৌটার দুধ আমদানি করতে যে কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়, তারও সাশ্রয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার গুঁড়ো দুধ আমদানি করতে হয়। এর বেশিরভাগই শিশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমরা যদি শতভাগ শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে পারি, এ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল শিশুকে জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে শুরু করে ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের সুস্বাস্থ্য এবং যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা উন্নত জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত। এ জন্য সরকার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। আমরা ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় পুষ্টি সেবাসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছি। শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যেই নবজাতকের স্বাস্থ্য কৌশলপত্র অনুমোদন দিয়েছি। জাতীয় পুষ্টিনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মাতৃত্বকালীন ছুটি সবেতনে ৬ মাসে উন্নীত করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিসে ব্রেস্টফিডিং কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল থেকে কর্মজীবী মায়েদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ৬ মাস পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে ঘরে তৈরি পরিপূরক খাবার দিতে হয়। এ খাবার যাতে যথাযথ পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত হয়, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। এ জন্য এ কার্যক্রমকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পুষ্টি সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ২০১১ সালে শুরু হওয়া এইচপিএনএসডিপি কর্মসূচি ২০১৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে জরুরি প্রসূতি সেবা, প্রশিক্ষণ, ইপিআইসহ আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রণব কুমার চৌধুরী মায়ের দুধের গুণাগুণ সম্পর্কে এক নিবন্ধে লেখেন- মাতৃদুগ্ধের গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবে না। বুকের দুধ পান মানবশিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ সূচনা। প্রি-ম্যাচিওর ও অসুস্থ নবজাতক সন্তানের জন্যও মায়ের দুধ প্রথম বিবেচ্য।
বুকের দুধ পান করে শিশু যেসব উপকার পেয়ে থাকে তা হচ্ছে- অ্যালার্জিতে ভোগে না। দিনেরাতে যেকোনো সময় শিশু চাইলে খেতে পারে। এর স্বাদ শিশুর পছন্দ। বুকের দুধে থাকা নানা রোগ প্রতিরোধক শক্তি ছোট্ট শিশুকে নানা ইনফেকশনস থেকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর শরীর গঠনে প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিড, প্রোটিন, সুগার ও চর্বি এমন সুসামঞ্জস্যভাবে বুকের দুধে আছে, যা শিশুর জন্য সুষম খাবার হিসেবে কাজ করে। শিশুর পাকস্থলী ও অন্ত্র বুকের দুধে থাকা ভিটামিন, এনজাইমস ও খনিজ পদার্থ পরিপূর্ণভাবে শোষণে সক্ষম। মায়ের দুধে থাকা বেশি মাত্রার কোলেস্টেরল শিশুর ব্রেইনের বিকাশে এবং নানা হরমোন ও ‘ডি’-ভিটামিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। প্রসূতি মা যদি স্বাভাবিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার খেতে পারেন, তবে সন্তান সবচেয়ে কম খরচে জোগানো শ্রেষ্ঠতম আদর্শ খাদ্য মায়ের দুধ পান করে বেঁচে থাকে, বড় হয়ে ওঠে। শুধু বুকের দুধ পান করছে, এমন শিশু টিকাদানসম্পর্কিত জ্বরে কম পড়ে, গবেষণায় এমন তথ্য মিলছে। বুকের দুধে নির্ভরশীল শিশু প্রথম বছরে তিন গুণ ওজন লাভ করে।
এক কথায় বলা যায়, মায়ের দুধের বিকল্প নেই। ইউনিসেফের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বের সকল নবজাত শিশু ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মাত্র মায়ের দুধ পান করলে প্রতিবছর প্রায় ১৫লক্ষ শিশুর মৃত্যুরোধ হয়তো সম্ভব হতো। মায়ের দুধ শিশুর জন্য শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠতম পুষ্টিকর ও সঠিক খাদ্য নয় বরং তা যে কোন রোগপ্রতিরোধক টিকার চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও কার্যকর। মায়ের দুধ যে শুধু মাত্র শ্রেষ্ঠতম পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা সম্পন্ন তাই নয় বরং তা শিশুর জীবন রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সাশ্রয়ীও- শিশুখাদ্য হিসেবে মাতৃদুগ্ধ পরিবারের খরচ ও সময় দুটোর সাশ্রয় করে থাকে।
আন্তরিক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার পর অনেক মায়ের সন্তানকে কৃত্রিম খাবার বা বেবিফুড, গরুর দুধ বা পাউডার দুধের আশ্রয় নিতে হয়, যা মোটেও কাম্য নয়। এ সমস্যা সমাধানে কর্মজীবি মায়েদের জন্য প্রায় বন্ধু সম একটি যন্ত্র ‘ব্রেস্ট পাম্প’। কাজের সময় শিশুকে স্তন্য দান সম্ভব না হলে তারা এই পাম্পের সাহায্যে মতৃদুগ্ধ সংগ্রহ করে তা যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ করতে পারেন। যা তাদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের অন্য কেউ বোতলের মাধ্যমে শিশুকে খাওয়াতে পারেন। ফলে মায়ের অনুপস্থিতিতেও শিশুটি মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হয়না।
সময়ের সাথে সাথে মানুষ যতো আধুনিক ও শিক্ষিত হচ্ছে উন্নত বিশ্বের মায়েরা ফিরে যাচ্ছেন ব্রেস্ট ফিডিং বা স্তন্যদানে। শিক্ষা, মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা এবং শিশুর জন্য এর গুরুত্ব অনুধাবন তাদের এবিষয়ে উৎসাহিত করছে। হাজারও ব্যস্ততার মাঝে শিশু সন্তানকে মাতদুগ্ধের আশির্বাদ থেকে বঞ্চিত করছেন না। স্তন্যদানে অন্যতম সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মা ও শিশুর মানসিক নৈকট্য বা বন্ধন দৃঢ় করায় এর কোন বিকল্প নেই। মা এইচ আইভি ইনফেকশন বা এইডস আক্রান্ত না হলে আর যেকোন অবস্থায় শিশুকে স্তন্যদানে কোন বাঁধা নেই।
তাই, জন্মের পর থেকে ছয়মাস বয়স পর্যন্ত মার্তদুগ্ধ হোক শিশুর একমাত্র খাদ্য। মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সেরা খাবারই শুধু নয়, বরং তা নবজাতকের জন্য আল্লাহপ্রদত্ত একটি হক বা জন্মগত অধিকার। পবিত্র কোরআনে হজরত মুসা (আ.)-এর শৈশবকালীন অবস্থায় মাতৃদুগ্ধ পানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘মুসা-জননীর অন্তরে আমি ইঙ্গিতে নির্দেশ করলাম যে ‘তুমি শিশুটিকে স্তন্যদান করতে থাকো।’ (সূরা আল-কাসাস)
শিশুর শারীরিক গঠন ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মায়ের বুকের দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পবিত্র কোরআনে নবজাতককে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর সময়সীমা সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘যে স্তন্যপানকাল পূর্ণ করতে চায়, তার জন্য জননীরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধপান করাবেন। জনকের কর্তব্য যথাবিধি তাদের ভরণপোষণ করা।’ (সূরা আল-বাকারা)
মাতৃগর্ভে সন্তানধারণ, প্রসব-পরবর্তী মায়ের বুকের দুধপানের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘জননী সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভধারণ করেন এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে।’ (সূরা লুকমান) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সন্তানকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার দুধ ছাড়াতে লাগে ৩০ মাস।’ (সূরা আল-আহকাফ)
মাতৃদুগ্ধ শিশুর মস্তিষ্কও গঠন করে। শিশুর বুদ্ধিদীপ্ততা ও চোখের তীক্ষèতা বা জ্যোতি বাড়ায়। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে মায়ের অল্প সময়ের মধ্যে গর্ভধারণ ঝুঁকি থাকে না। তাই স্তন্যদান শরিয়তসম্মত একটি প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণপদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। যে মা নবজাতককে দুধ পান করান, তার জন্য মাহে রমজানের রোজা পালন করার বাধ্যবাধকতা পর্যন্ত শিথিল করে দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা মুসাফির, স্তন্যদানকারিণী ও গর্ভবতী নারী থেকে রমজানের রোজা পালন করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে দিয়েছেন।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ ও নাসাই)
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরেক বর্ণনায় বলেছেন, ‘শিশু জন্মের পরপর মায়ের বুক থেকে যে দুধ আসে তা শিশুর জন্য অত্যন্ত সুষম, উপাদেয় ও উপকারী খাবার।’ (সুনানে তিরমিজি)
ইসলাম মতে, কোনো কারণে মা শিশুকে দুগ্ধদানে অক্ষম হলে বিনিময় মূল্য দিয়ে অন্য মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর তাগিদ পর্যন্ত করেছে। এর মাধ্যমে অনুমান করা যায় ইসলামে মায়ের দুধের গুরুত্বের বিষয়টি। ইসলাম বুকের দুধ খাওয়ানো প্রতিটি মায়ের জন্য ওয়াজিব করেছে। যারা সফলভাবে এই ওয়াজিব পালন করবে তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার।
‘আজকের শিশু, আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’। অভিভাবকের দায়িত্ব হচ্ছে মাতৃদুগ্ধ দানকে উন্নয়ন ও সহায়তা করা। ভবিষ্যৎ কর্ণধার শিশুদের মানবাধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে মায়েদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। মাতৃদুগ্ধ যাতে শিশুরা নিয়মিত পায় এ জন্য মায়েদের মধ্যে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মায়ের দুধের অনন্য ভূমিকার কথা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞান মায়ের দুধ খাওয়ানোর ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করছে। বিষয়টি মায়েরা মন দিয়ে উপলদ্ধি করলেই মঙ্গল।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ এর সহযোগিতায় রাজধানী ঢাকায় সম্প্রতি এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্টজনেরা যে মত ব্যক্ত করেন তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশিষ্টজনেরা বলেন, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুখাদ্যের কোনো বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। বাজারের গুঁড়া দুধ বর্জন করার জন্য মায়েদের সচেতন করতে হবে। আমরা ব্যবহার না করলে কোম্পানিগুলো শিশুখাদ্য বিক্রি বন্ধ করবে। মেডিকেল কারিকুলামে বেশি করে ব্রেস্টফিডিংয়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রচার চালাতে হবে। গণমাধ্যম, চিকিৎসকসমাজ ও অন্য সবাই মিলে আইন প্রয়োগে উদ্যোগী হতে হবে। জোরালোভাবে নতুন আইন প্রয়োগ করতে হবে। নতুন আইন কেউ ভঙ্গ করলে তার তিন বছর সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের শিশুখাদ্য খেয়ে যদি কেউ মারা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছর কারাদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করতে হবে। প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠুক মাতৃদুগ্ধের নিরাপদ ছায়াতলে- এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ আগস্ট ২০১৫/টিপু
রাইজিংবিডি.কম
আবার হামলা হলে বিশ্বযুদ্ধ হবে: ইরান