ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

লঙ্কা ওয়াশের শঙ্কা

উদয় হাকিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-২৯ ২:২২:২২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-০১ ৮:৫৬:০১ এএম

উদয় হাকিম, কলম্বো (শ্রীলঙ্কা) থেকে:  প্রথম ওয়ানডেতে ৯১ রানের হার। মাঝখানে একদিনের বিরতি। দ্বিতীয় ম্যাচে হার ৭ উইকেটে। তিন ওয়ানডের সিরিজে শেষ ম্যাচ বুধবার, ৩১ জুলাই। এ অবস্থায় লঙ্কা ওয়াশের শঙ্কায় বাংলাদেশ।

সাধারণত কোনো সিরিজের সবগুলো ম্যাচ হারলে ক্রিকেটের অভিধানে তাকে বলা হয় হোয়াইট ওয়াশ। বাংলায় ধবল ধোলাই। কিন্তু বাংলাদেশে কেউ খেলতে গিয়ে টাইগারদের কাছে সবগুলোর ম্যাচ হারলে, তাকে আমরা বাংলাওয়াশ বলে তৃপ্তি পাই। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে অনেকেই বাংলাওয়াশের স্বাদ ভোগ করেছেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কা এসে যেভাবে একের পর এক অসহায় আত্মসমর্পণ- তাকে কি বলা যায়, লঙ্কা ওয়াশ?

২৬ জুলাইয়ের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করেছিলো শ্রীলঙ্কা। তুলেছিলো ৩১৪ রান। আর বাংলাদেশ অল আউট হয়েছিলো ২২৩ রানে। সেদিন মনে হয়েছিলো টসে জিতে যদি আগে ব্যাট করতো বাংলাদেশ! ফলাফল অন্যরকমও হতে পারতো।

পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন কোচ খালিদ মাহমুদ সুজন। ২৮ জুলাইয়ে টস জিতল বাংলাদেশ। প্রত্যাশা অনুযায়ী আগে ব্যাটও করলো। তবে আসা যাওয়ার মিছিলে ২৩৮ রানে থামতে হলো, ৮ উইকেট খুঁইয়ে। ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল মুশফিকুর রহিম। বুক চিতিয়ে একাই লড়াই করে গেছেন, করেছেন অপরাজিত ৯৮। আর তাই ওয়ালটন স্মার্ট প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরষ্কারও উঠেছে তাঁর হাতে। তবে আরেকজনের কথা না বললেই নয়; অনেক দিন পর রান পেলেন মিরাজ। ৪৯ বলে করেছেন ৪৩। হাফ সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও পারলেন না। তবু মুশফিকের সঙ্গে তাঁর জুটির কারণেই বলার মতো কিম্বা কিছুটা সম্মানজনক রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। লাভ হয়নি তাতে। যথারীতি আগের ম্যাচের মতো হেসে খেলে জয় পেয়েছে লংকানরা। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত।

টিভিতে যারা খেলা দেখেছেন তারা হয়তো কিছুটা হতাশ হয়েছেন। কিন্তু মাঠে বসে যারা দেখেছেন, তাঁদের হতাশাটা আরো বেশি। তামিম এবং তার বাহিনীর মধ্যে ছিলো না আত্মবিশ্বাস। বলা হয় আত্মবিশ্বাস অর্ধেক যুদ্ধজয়। তার মানে অর্ধেক আগেই হারিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ফিল্ডিং হঠাৎ করেই এমন ছন্নছাড়া হয়ে উঠলো কীভাবে, কেউ হিসেব মেলাতে পারছেন না। মাঠে কারো বডি ল্যাংগুয়েজই পজিটিভ না। জেতার মানসিকতাটাই যেন হারিয়ে ফেলেছেন তারা। সিনিয়ররা ব্যর্থ হয়েছেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে। তামিমের সঙ্গে রিয়াদও পুরো ফ্লপ। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই ফ্লপ।

গত বছর ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের সবগুলোই হেরেছিলো বাংলাদেশ। সীমিত ওভারের খেলা বলেই হয়েতো সেখানে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিলো। এই সিরিজে অবশ্য শ্রীলঙ্কা হেসে খেলেই জিতছে। তবে সেই সিরিজে যে হতাশ বাংলাদেশকে দেখেছিলাম, সেরকমই দেখতে পাচ্ছি শ্রীলঙ্কাতেও।

হঠাৎ মনে হলো শ্রীলঙ্কা তাদের হারানো ঐতিহ্যে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ১৯৯৬ এর বিশ্বকাপ জিতেছিলো তারা। তখন পুরো ক্রিকেট বিশ্বের প্রচলিত ধারণা বদলে শুরুতে মেরে কেটে বেশি রান তোলার প্রবণতা ছিলো। তার সুফলও তারা ঘরে তুলেছিল কাপ জিতে। এই বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম দুই ম্যাচে তারা শুরতেই অনেক বেশি রান তুলেছে। এবং তার ফলও পেয়েছে।

আরেকটা বিষয় বলে রাখি- শ্রীলঙ্কার কাছ থেকেই শিক্ষা নিতে পারতো বাংলাদেশ। ফর্মে থাকতেই অবসর নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার তারকা ক্রিকেটার সাঙ্গাকারা, মাহেলা। ২৬ জুলাইয়ের ম্যাচে রাজকীয় অবসর নিলেন মালিঙ্গা। আমাদের মাশরাফি, তামিম, রিয়াদ বিষয়টি ভাবতে পারেন! নিজেদের নায়কোচিত ভাবমূর্তি থাকতেই সরে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে মুশফিক এবং সাকিব, তাদের কাছ থেকে এখনো অনেক পাওয়ার বাকি আছে বলেই মনে হচ্ছে।

৩১ জুলাই সিরিজের শেষ ম্যাচ। আগেই সিরিজ হেরে বসেছে বাংলাদেশ। তারপরও একটা জয় চাই বাংলাদেশের। একটা জয়ই পারে সব কিছুর বদলে দিতে। অন্তত লঙ্কা ওয়াশের লজ্জা থেকে বাঁচতে প্রাণপণে জেতার চেষ্টা করা উচিত টাইগারদের। সেজন্য দরকার এখন একটাই- সেটা হলো আত্মবিশ্বাস।

তবে যেভাবে দাওয়াত দিয়ে এনে বলে কয়ে বাংলাদেশকে হারাচ্ছে শ্রীলঙ্কা সেটা টাইগার ভক্তদের কাম্য নয়। কেন জানি না, অনেকের বিশ্বাস; অন্তত সাকিব থাকলে এভাবে হারতে হতো না। একদিকে মাশরাফির যেমন অবসর নেয়ার সময় এসে গেছে; অন্যদিকে মাঠের লড়াইয়ে অধিনায়ক মাশরাফির বিকল্প হয় নি এখনো।

তবু চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকলাম- শেষটা ভালো করুক বাংলাদেশ। অন্তত লঙ্কা ওয়াশের হাত থেকে বাঁচতে হবে। অবশ্য এই হতাশার দিনে একটা সুখবরও ছিলো। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের নারী ইমার্জিং দল ৯ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। পর পর ২ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ২-১ এ।


** ফরহাদ রেজার অভাব বোঝা গেল প্রথম ওয়ানডেতে

** শ্রীলঙ্কায় সব ছাপিয়ে নিরাপত্তা এবং বৃষ্টি


রাইজিংবিডি/কলম্বো (শ্রীলঙ্কা)/২৯ জুলাই ২০১৯/উদয় হাকিম

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন