বিশ্বকাপে আইসিসির ‘টাইগার’ বাংলাদেশের সৌমেন
বার্মিংহাম থেকে ইয়াসিন হাসান : ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বলা হয় ফুটবল বিশ্বকাপকে। ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনেকটাই এক কেন্দ্রিক। বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে এবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে মাত্র ১০টি দেশ। এ নিয়ে আইসিসির নুন্যতম ভ্রুক্ষেপও নেই।
২০২৩ বিশ্বকাপে কি হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়াতে ব্যর্থ আইসিসি। স্বাগতিক ইংল্যান্ড কতটুকু পেরেছে সেটা নিয়েও অনেক প্রশ্ন। এশিয়ায় বিশ্বকাপ হলে পাড়া-পড়শি সবাই টের পেয়ে যায়। সেখানে ইংল্যান্ডবাসী অনেকেই জানেন না দশ দলের বিশ্বকাপ হচ্ছে তাদের দেশে। সেই দশ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও। মাঠে ক্রিকেট মাতাচ্ছেন সাকিব, মাশরাফি, মুশফিক, তামিম, মাহমুদউল্লাহ। রয়েছেন সৌম্য, লিটন, মুস্তফিজরাও। তাদের সঙ্গে আরও একজন বাংলাদেশি বিশ্বকাপে কাজ করছেন। যাকে বিশ্বকাপের আয়োজক আইসিসি ডাকে ‘টাইগার’ নামে।
ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির রয়েছে নিজস্ব টিভি চ্যানেল আইসিসি টিভি। তাতে কাজ করছে নিজস্ব প্রোডাকশন টিম ও ব্রডকাস্টার টিম। প্রোডাকশন টিমে বাংলাদেশের একমাত্র ক্যামেরাপারসন হিসেবে কাজ করছেন সৌমেন গুহ। সৌমেন গুহ হচ্ছেন আইসিসির টাইগার।
`আমাদের মাল্টি ট্যালেন্টেড ও মাল্টি কালচারাল ক্রু মেম্বার নিয়ে কাজ করছি। অস্ট্রেলিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকাণ, ভারতীয়রা কাজ করছে। বাংলাদেশের একজন আছে, যার নাম সৌমেন। আমরা সবাই তাকে টাইগার বলে ডাকি। খুবই ভালো একজন মানুষ এবং নিজের কাজটা খুব ভালো করে করতে জানে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চলাকালিন আমার তার সাথে পরিচয় হয়। তার কাজের অভিজ্ঞতা ও ধরণ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। খুবই হার্ড ওয়াকিং। সেই থেকে আমরা তাকে নিয়ে কাজ করছি। ’ – বলছিলেন আইসিসির টিভির পরিচালক গেভিন স্কোভেল।
বিশ্বকাপ সম্প্রচারিত হচ্ছে আইসিসির নিজস্ব প্রোডাকসনের মাধ্যমে। চারটি গ্রুপে কাজ হচ্ছে। প্রতি গ্রুপে ১৫০ জন করে ক্রু কাজ করছেন। পৃথিবীর মোট ৩৬টি দেশ থেকে দক্ষ ও সেরা কর্মী নিয়ে প্রোডাকশনের কাজ করছে আইসিসি। প্রোডাকশন টিমের ‘এ’ গ্রুপে কাজ করছেন সৌমেন, আইসিসির টাইগার। এই গ্রুপটি লন্ডনের আশ-পাশের শহরের ম্যাচগুলোর দায়িত্বে। একটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচেও থাকবেন সৌমেনদের গ্রুপটি।
‘বিশ্বকাপের ১৩-১৪টি ম্যাচে ক্যামেরার পেছনে থাকব। সেমিফাইনাল, ফাইনালেও দায়িত্ব থাকবে। টনটনে বাংলাদেশের ম্যাচে ছিলাম। বাংলাদেশি বলে যে শুধু বাংলাদেশের ম্যাচে থাকব তেমনটা নয়। এখানে রোটেশন করে কাজ করা হয়। বড়-ছোট ম্যাচ বলে এখানে কোনো কথা নেই। প্রতিটি ম্যাচ এখানে সমান গুরুত্বের। ’ – বলছিলেন সৌমেন গুহ।
দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে ক্যামেরাপারসন হিসেবে কাজ করেছেন সৌমেন। ক্রিকেট মাঠে প্রতিদিন যাতায়াত ছিল তার। ঘরোয়া সিরিজ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে যেতেন ক্যামেরা পারসন হিসেবে। কিভাবে প্রোডাকশনের কাজ আয়ত্ব করেছেন সেই গল্প শুনিয়েছেন রাইজিংবিডিকে, ‘যখন মাঠে যেতাম প্রেস বক্সের ছাদে আইসিসির ক্যামেরা পারসনদের কাজ দেখতাম। সচরাচর প্রেস বক্সের ছাদে তিনটা করে ক্যামেরা থাকত। আমি পেছন থেকে তাদের হাতের কাজগুলো দেখতাম। জুম ইন-আউট, ফোকাস, কোন বাটনে কোনটা হয়- এগুলো বোঝার চেষ্টা করতাম। একদিন অস্ট্রেলিয়ার একজন ক্যামেরাপারসন আমাকে ডেকে আমার আগ্রহের কথা শুনে আমাকে কিছু শিখিয়েছিল। সেখান থেকেই শুরু। ওভাবেই এগিয়ে যাওয়া।’
তরুণদের এ পেশায় আগ্রহ থাকলে এগিয়ে আসতে কোনো সমস্যা দেখছেন না গেভিন স্কোভেল, ‘এটা খুব বড় একটা প্লাটফর্ম। অনেকে এখানে শখের বসে কাজ করে। অনেকের জন্য শখটা পেশা হয়ে যায়। তরুণরা যারা আসতে চায় তাদেরকে স্বাগতম। তবে তাদেরকে আগে জানতে হবে তারা কোন জায়গায় দক্ষ। প্রোডাকশন, ব্রডকাস্ট, গ্রাফিক্স, ক্যামেরা নাকি অন্য কোথাও। তারা যদি নিশ্চিত হতে পারে তারা কোথায় কাজ করবে তাহলে তারা এ পেশায় আসতেই পারে। আবেগি ও উদ্যম থাকলে অবশ্যই বড় পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব।’
একজন সৌমেন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নিজের যোগ্যতা ও সামর্থ্য দেখিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। মাঠের বাইরের এ ‘টাইগার’ বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করছেন লাল-সবুজ পতাকাকে।
রাইজিংবিডি/বার্মিংহাম/১ জুলাই ২০১৯/ইয়াসিন/আমিনুল
রাইজিংবিডি.কম