ঢাকা, সোমবার, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বিজ্ঞানের সেরা ১৫ রহস্য (শেষ পর্ব)

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৯ ১:৫৩:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৯ ২:০৫:৩৫ পিএম

বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছেন, ‘ওরা জানে না যে ওরা জানে না, কিন্তু আমি জানি যে আমি জানি না।’ এক্ষেত্রে বিজ্ঞানকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত, কেননা বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জানতে পেরেছি। তারপরও বিজ্ঞানের অনেক রহস্য আমাদের অজানা রয়ে গেছে, যা যুগে যুগে বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় ১৫ রহস্য নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ শেষ পর্ব।

মহাজাগতিক বেতার তরঙ্গ রহস্য

মহাকাশের অন্যতম একটি অমীমাংসিত রহস্য হলো বেতার তরঙ্গ। শত শত থেকে শুরু করে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এসব রহস্যজনক সংকেত বহুবার বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে। তবে এসব সংকেতের অর্থ বা কোথা থেকে উৎপত্তি, তা এখনো বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেননি। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, মহাকাশে বুদ্ধিমান ভিনগ্রহী প্রাণীর আবাস রয়েছে এবং এসব সংকেত তাদের পাঠানো। এছাড়া শব্দগুলো কৃষ্ণগহ্বর, মৃতপ্রায় নক্ষত্র থেকে উৎপত্তি বলেও মনে করা হয়। তবে আসল কারণটি এখনো কারো জানা নেই।

অদ্ভুত প্রাণী টার্ডিগ্রেড রহস্য

আট পাওয়ালা অতিক্ষুদ্র প্রাণী টার্ডিগ্রেড। এক মিলিমিটারের মতো দীর্ঘ এই প্রাণী তেজস্ক্রিয়তা, অতিমাত্রায় ঠান্ডা, চরম পানিশূন্যতা থেকে শুরু করে মহাশূন্যেও টিকে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে যত রকম মহাজাগতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে তার প্রায় সবগুলোই মোকাবিলা করে টিকে থাকার ক্ষমতা আছে টার্ডিগ্রেডের। তাদের এই অসাধারণ টিকে থাকার ক্ষমতার কারণে বিজ্ঞানীরা মনে করে, এই প্রাণী অন্য গ্রহ থেকে পৃথিবীতে এসেছে। আবার অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা এদের জন্ম পৃথিবীতেই। এ নিয়ে রহস্যের শেষ নেই।

আমাদের ঘুম পায় কেন?

দিনের এক তৃতীয়াংশ সময় আমরা ঘুমিয়ে কাটাই। আসলে ঘুমের সময় আমাদের দেহ পুনরায় শক্তি সঞ্চয় এবং মেরামতের কাজ করে; পাশাপাশি আমরা ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখি। অনেকসময় দেখা যায় সঠিক পদ্ধতিতে না ঘুমানোর ফলে আমাদের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু সকল জীবন্ত প্রাণীরই কিন্তু ঘুমের দরকার নেই। তবে আমরা কেন ঘুমাই? আমাদের মস্তিষ্কের ‘গ্লিয়া’ কোষ নামক এক কোষের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে আমাদের ঘুমের প্রয়োজন। 

অক্টোপাস কেন সমুদ্র থেকে বেরিয়ে এসেছিল?

ব্যাপারটা শুনতে অবাস্তব বলে মনে হলেও এটি কিন্তু সত্যি ঘটেছিল। ২০১৭ সালে প্রায় ডজনখানেক অক্টোপাস মহাসাগর থেকে বেরিয়ে সমুদ্রতীরবর্তী ওয়েলস শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে এবং কেউ এই ঘটনার কোনো সমাধান দিতে পারেনি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের অনেক দক্ষ ব্যক্তি সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন এবং নানাজনে নানারকম ব্যখ্যা উপস্থাপন করেন। কেউ বলেন, অক্টোপাসগুলো পাগল হয়ে গেছে; কেউ আবার বলেন ঝড়ের কারণে তারা স্থানচ্যুত হয়েছে; কেউ বলেন, তারা নাকি খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে পথ হারিয়েছে। তিন দিন পরে অক্টোপাসগুলো আবার সাগরে ফিরে যায় রহস্যের জন্ম দিয়ে।

অ্যামেলিয়া এয়ারহার্টের সঙ্গে কী ঘটেছিল?

অ্যামেলিয়া এয়ারহার্ট ছিলেন প্রথম নারী পাইলট যিনি একাধারে আটলান্টিক মহাসাগর অঞ্চল এবং হাওয়াই দ্বীপ থেকে আমেরিকার মূলভূমিতে বিমান চালান। ১৯৩৭ সালে পৃথিবী আবর্তন করতে গিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের কাছে তিনি বিমানসহ উধাও হয়ে যান। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিমানের ধ্বংসাবশেষও পাওয়া যায়নি। তার এভাবে গায়েব হয়ে যাওয়া ২১ শতকের অন্যতম এক অমীমাংসিত রহস্য। তার বিমান কি ক্র্যাশ করেছিল? নাকি তিনি কোনো এক অজানা দ্বীপে আটকা পড়েছেন? নাকি জাপানিদের হাতে আটক হয়েছেন? প্রশ্ন অনেক জন্মে কিন্তু কোনো বিজ্ঞানী আজ পর্যন্ত এই অমীমাংসিত রহস্য সমাধান করতে পারেননি।

নির্জন স্থানে গাছ পড়ে গেলে শব্দ হয়?

শোনার মতো কেউ নেই এমন স্থানে গাছ যখন পড়ে যায় তখন কি শব্দ হয়? প্রশ্নটির উত্তর দিতে গেলে আরেকটি প্রশ্ন আসে- শব্দ কী? যদি বাতাসের তরঙ্গ গতিতে ব্যাঘাতের কারণে শব্দ সৃষ্টি ধরা হয়, তাহলে আমরা বলতেই পারি যে, শোনার মতো কেউ না থাকলেও তখন শব্দ হয়। কিন্তু কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, এটি রেকর্ড করার জন্য কোনো পরিমাপের ডিভাইস ছাড়া শব্দটির অস্তিত্ব নেই।

ডিম আগে নাকি মুরগি?

যদিও ব্রিটিশ গবেষকগণ বলেছেন যে, মুরগির ডিম্বাশয়ে যে প্রোটিন থাকে সেটি ছাড়া ডিমের খোসার গঠন সম্ভব নয়। কিন্তু এটা স্বীকার করা হয় যে, অন্য প্রজাতির ডিম পাড়ার ভিন্ন ধরনের পদ্ধতি রয়েছে, যাদের অস্তিত্ব পৃথিবীতে মুরগির পূর্বে ছিল। তার মানে ডিম মুরগির আগে এসেছে।এর ফলে আমরা আবার সেই এক চতুর্ভুজের মধ্যেই ফিরে যাই। আসলে এটি বিবর্তন অভিযোজনের অন্যতম উপাদান। এটা নির্ধারণ করা সত্যিই অসম্ভব যে কোনটা আগে এসেছে- মুরগি না ডিম।

মৃত্যুর পরে কি জীবন আছে?

কেউ মারা গিয়ে বলতে পারে না যে, সে বেঁচে আছে। এ সর্ম্পকে কেউ স্থায়ী অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে না। সুতরাং প্রশ্ন আসে, মৃত্যুর পরে সত্যিই কি জীবন আছে, যেখান থেকে কেউ ফেরত আসতে পারে। অনুসন্ধান করা মুশকিল, কেননা মৃত্যুর পরে কেউ ফিরে আসতে পারে না।কিছু বিজ্ঞানী জোর দিয়ে বলেছেন, মৃত্যুর পরে জীবন একটি বাস্তব, প্রমাণিত, বৈজ্ঞানিক সত্য। আবার কিছু বিজ্ঞানীর মতে, কোয়ান্টাম শারীরিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৃত্যুর পরে জীবন অসম্ভব।

পড়ুন : বিজ্ঞানের সেরা ১৫ রহস্য

 

ঢাকা/ফিরোজ/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন